অভিভাবক এবং টিউটরের মধ্যে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত।

সন্তানের পড়াশুনার হাতে খড়ি মা বাবার হাত দিয়ে হলেও বর্তমান যুগের চাহিদা বা ট্রেন্ড যাই বলুন না কেন, বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য টিউটর নিয়ে সব বাবা মা সচেতন। কারণ প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে প্রত্যেক কেই নিজ নিজ মেধা অনুযায়ী যোগ্য হয়ে গড়ে ওঠার প্রয়োজন পড়ে। যা শুধুমাত্র  স্কুলের সীমিত সময়ের মধ্যে সম্ভব নয়। তাই স্কুল, কলেজের পাশাপাশি ঘরে আলাদাভাবে বাচ্চার পড়াশুনার দায়িত্ব কিছুটা হলেও টিউটরএর উপর নির্ভর করে।

একজন অভিভাবক আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো বন্ধু বা শত্রু হতে পারে। কিন্তু একজন দক্ষ  টিউটর এর সফলতার বড় কারণ স্টুডেন্ট -টিউটর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি অভিভাবক-টিউটর এর মাঝে একটি কার্যকরী সম্পর্ক গড়ে উঠা। একজন স্টুডেন্ট এর জন্য নির্ধারিত সময়ে একজন  টিউটর কতটুকু দক্ষতার সাথে পড়াতে পারে এবং নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত থাকে তা অনেকটাই টিউটর এবং অভিভাবক এর মাঝে গড়ে উঠা পজিটিভ সম্পর্কের উপর নির্ভর করে। উভয়ের মাঝে একটি পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা সহজ নয়। কিন্তু  আপনি যদি  টিউটর বা অভিভাবক হিসেবে নিজেরদের মাঝে  একটি সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন তবে আপনার সন্তান বা স্টুডেন্ট সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। টিউটর এবং অভিভাবকেরা  নিজেদের মাঝে  কিভাবে  সুসম্পর্ক গড়ে তুলবেন তার কিছু সহজ উপায় জেনে নেই

টিউটর এর করণীয়

  • উভয়ের মধ্যে একটি কার্যকরী সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রথম শর্ত পারস্পরিক আস্থা অর্জন। মা বাবা সবসময় তার সন্তানের পড়াশুনা নিয়ে হোম টিউটর যথেষ্ট সচেতন কিনা তা সুনিশ্চিত হতে চায়। আপনি টিউটর হিসেবে অভিভাবকের কাছে নিজেকে সহজভাবে উপস্থাপন করুন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন। পড়াশুনার বাইরে তাদেরকে নিজের সম্পর্কে জানান। এতে অভিভাবকেরা আপনার সাথে সাচ্ছন্দে কথা বলতে পারবে।
  • স্টুডেন্ট এবং অভিভাবকদের সাথে পড়াশুনার পাশাপাশি চলতি কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন, স্টুডেন্ট এর প্রতি অধিক যত্নশীল হোন এবং তার সমস্যাগুলো বুঝার চেষ্টা করুন। এভাবে পারস্পরিক সহযোগিতায় আপনি একটি পজিটিভ কাজের পরিবেশ পেতে পারেন এবং অভিভাবক ও স্টুডেন্ট একটি নির্ভরযোগ্য সমাধান খুঁজে পাবে।
  • টিউটর হিসেবে অভিভাবকের কথা বা যে কোনো অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কোন বিষয়ে সমর্থন না করলে সরাসরি বুঝিয়ে বলুন। এক্ষেত্রে ইতস্তত করবেন না। কারণ অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নিজের কোনো ভুল হলে স্বীকার করুন এবং শুধরে নিন। শুধরে নেয়া মানে নিজেকে আরো সঠিকভাবে প্রস্তুত করা। তাই এক্ষেত্রে দ্বিধা বা সংশয় রাখবেন না।
  • প্রতিনিয়ত মা বাবা কে স্টুডেন্ট এর দুর্বলতা এবং অগ্রগতি সম্পর্কে আপডেটেড রাখার চেষ্টা করুন। আপনার নিজস্ব লেসন প্লানগুলো তাদের সাথে শেয়ার করুন। তবে স্টুডেন্ট পড়াশুনায় বেশি দুর্বল হলে তার পজিটিভ দিকগুলো খুঁজে বের করুন এবং অভিভাবক ও স্টুডেন্ট উভয়কে উৎসাহিত করুন।
  • কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে অনুপুস্থিত থাকলে অভিভাবকদের তা জানিয়ে দিন। অসুম্পূর্ণ লেসনগুলো পড়াতে অন্য কোনো দিন বেছে নিতে পারেন।
  • টার্ম পরীক্ষার সময় নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে অতিরিক্ত সময় দিন এবং স্টুডেন্ট কে যতটা সম্ভব সিলেবাস সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করুন।

মা বাবার করণীয়

  • অভিভাবক হিসেবে আপনি সন্তানের যে কোনো বিষয়ে টিউটর কে জানান এবং আলোচনা করে একটি সমাধান বের করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে টিউটর এর আচরণ বা কোনো বিষয়ে সংশয় থাকলে খোলামেলাভাবে আলোচনা করুন। পারস্পরিক সহযোগিতা একজন স্টুডেন্ট কে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
  • টিউটর এর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন এবং আপডেটগুলো ভালোভাবে জেনে রাখুন এবং টিউটর এর অনুপুস্থিতিতে আপনি নিজ থেকে লেসন প্লানগুলো ফলো করুন।
  • পড়াশুনার বাইরে টিউটর এর সাথে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে তার খোঁজ খবর নিন। সুবিধা অসুবিধা জানার চেষ্টা করুন। কোনো কারণে টিউটর অনুপুস্থিত থাকলে ফোন করে জেনে নিন। টিউটর এর কোনো পরীক্ষা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকলে ছুটি দিন এবং আপনি নিজে লেসনগুলো পড়ান।

উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়  একজন সন্তান বা স্টুডেন্ট এর সুদূরপ্রসারী অগ্রগতি সম্ভব। যতটা সম্ভব নিজেদের দ্বিধা দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে আপনার সন্তান বা স্টুডেন্ট এর স্বার্থে একটি কার্যকরী সম্পর্ক গড়ে তুলুন।

Leave a reply:

Your email address will not be published.

Site Footer